শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৪

Filled Under:

স্থাপত্যিক নিদর্শন তাজহাট জমিদার বাড়ি

রংপুর শহর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে তাজহাট গ্রামে অবস্থিত এ জমিদার বাড়িটি। রত্ন ব্যবসায়ী মান্নালাল ছিলেন তাজহাট জমিদারির প্রতিষ্ঠাতা।
ব্যবসায়িক কারণে অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকে তিনি রংপুরের মাহিগঞ্জে এসে বসবাস শুরু করেন এবং একটি ভবন নির্মাণ করেন। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে
তার এ ভবনটি ধ্বংস হয়ে যায় এবং তিনি আহত হয়ে পরবর্তীতে মারা যান। তার দত্তক পুত্র গোপাল লাল রায় বাহাদুর জমিদারি দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান
ভবনটির নির্মাণ শুরু করেন। ১৯১৭ সালে ভবনটি সম্পূর্ণ হয়। ইতালি থেকে আমদানিকৃত শ্বেত পাথর দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল এ বাড়ির সম্মুখের সিঁড়িটি।
পুরো ভবনটিতে রয়েছে ২৮টি কক্ষ । ভবনের সামনে মার্বেল পাথরের সুদৃশ্য একটি ফোয়ারা আজো বিদ্যমান। ১৯৫২ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হবার পরে এ
বাড়ি চলে যায় কৃষি বিভাগের অধীনে এবং এখানে গড়ে ওঠে কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট।
এক নজরে দেখি তাজহাট জমিদার বাড়ির টুকিটাকিঃ
স্থানের নামঃ তাজহাট জমিদার বাড়ি
টুরিস্ট আকর্ষণীয় জায়গা/স্পটঃ কৃষি ইনস্টিটিউট , জমিদার বাড়ি , খননকৃত বিশাল আকৃতির ৪টি পুকুর।
সংক্ষিপ্ত বর্ণনাঃ রংপুর শহর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে তাজহাট গ্রামে অবস্থিত এ জমিদার বাড়িটি। বাড়িটির চারদিকে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের
অপরূপ শোভা, ফুলের বাগান, উত্তর ও দক্ষিণাংশে কামিনী, মেহগনি, কাঁঠাল ও আমবাগান। ঢাকার আহসান মঞ্জিলের মতো দেখতে এই জমিদার বাড়িটির
তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় রয়েছে রাজা গোপালের ব্যবহৃত নানা জিনিস। ইতালি থেকে আমদানিকৃত শ্বেত পাথর দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল এ বাড়ির সম্মুখের
সিঁড়িটি। পুরো ভবনটিতে রয়েছে ২৮টি কক্ষ । ভবনের সামনে মার্বেল পাথরের সুদৃশ্য একটি ফোয়ারা আজো বিদ্যমান। ২০০৫ সাল পরবর্তী সময় থেকে
বাড়িটি তাজহাট জমিদারবাড়ি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে।
ইতিহাসঃ বিংশ শতাব্দীতে বৃহত্তর রংপুর শাসন করতেন তৎকালীন স্বনামখ্যাত জমিদার মহারাজা কুমার গোপাল রায়। প্রাসাদটি বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে
মহারাজা কুমার গোপাল লাল রায় নির্মাণ করেন।মহারাজা গোপাল রায় ছিলেন হিন্দু এবং পেশায় ছিলেন একজন স্বর্ণকার। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি রাজা
গোপাল প্রায় ২ হাজার রাজমিস্ত্রির সহায়তায় একটি জমিদার বাড়ি নির্মাণ করেন। সেই জমিদার বাড়িটিই বর্তমানে তাজহাট জমিদার বাড়ি হিসেবে সুপরিচিত।
বাড়িটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয় তৎকালীন প্রায় দেড় কোটি টাকা। জমিদার বাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য রয়েছে শতাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী। প্রাচীন এই
রাজবাড়িটি শুধু জমিদার গোপাল রায়ের স্মৃতিই বহন করছে না, বরং প্রাচীন ঐতিহ্য বহন করে চলছে। সে কারণে জমিদার বাড়িটি বাংলাদেশের গর্বে পরিণত
হয়েছে
ঢাকা থেকে দূরত্বঃ ৩২০ কিলোমিটার ।
শহর থেকে দূরত্বঃ ৩ কিলোমিটার।
হাসপাতাল/ ক্লিনিকঃ শহর এর কাছাকাছি হওয়ায় প্রচুর হাসপাতাল ও ক্লিনিক আছে । রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ফোনঃ ০৫২১৬৩৬৩০ ।
ফায়ার সার্ভিসঃ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, রংপুর। ফোনঃ ০৫২১-৬৩৫৫৭
যেভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত বাস যায়। রংপুর শহর থেকে ৩ কিলোমিটার দক্ষিণ - পূর্বে এই জমিদার বাড়ী। শহর থেকে খুব সহজেই যাওয়া যায়। যেকোনো রিক্সা
বা অটোরিক্সায় যাওয়া যায়। ভারা ২০ থেকে ৫০ টাকা ।
চলুন দেখেনেই সেন্ট মার্টিন যাওয়ার যোগাযোগ ব্যাবস্থাঃ
বাস সার্ভিসঃ এস আর , গ্রিনলাইন, হানিফ পরিবহন ।।
বাস স্ট্যান্ডঃ কল্যাণপুর, গাবতলী মহাখালী ।।
বাস ভারাঃ ৫০০ -১০০০ টাকা
বাসের ধরনঃ এসি/নন এসি
ট্রেন সার্ভিসঃ রংপুর পর্যন্ত ।
ট্রেন স্টেশনঃ কমলাপুর, এয়ারপোর্ট, গাজীপুর
ট্রেন ভারাঃ ৪০০ থেকে ১২০০ টাকা
এয়ার পোর্টঃ না
এয়ারলাইনসঃ না
বিমান ভারাঃ না
রেস্তুরেন্টঃ সিঙ্গারা হাউজ, অবস্থানঃ সুপার মার্কেট থেকে পায়রা চত্বরের দিকে যেতে ডান পাশের গলিতে ঢুকলেই হবে, পুষ্টি,অবস্থানঃ সিঙ্গারা হাউজ যাওয়ার
গলির মুখেই।নাড়ুর হোটেল,অবস্থানঃ স্টেশন রোড, সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখার বিপরীতে।সিসিলি, অবস্থানঃ রাজা রামমোহন রায় শপিং কমপ্লেক্স।
আবহাওয়াঃ ২৫-৩৬ দিগ্রি সেঃ
খাবারে দামঃ স্বাভাবিক ।
ছবিঃ
গুগল ম্যাপঃ এখানে ক্লিক করুন ।।
টুরিস্ট গাইডঃ call for tourist Guide
কোথায় থাকবেন
রংপুর শহরে থাকার জন্য সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা হলো জেল রোডে অবস্থিত আর.ডি.আর এস। এখানে দ্বিশয্যা কক্ষের ভাড়া ১১০০ টাকা, এক শয্যা কক্ষের
ভাড়া ৮০০ টাকা। ফোন ৬২৫৯৮, ৬২৮৬৩। রংপুরে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের একটি বড় ধরনের মোটেল রয়েছে। এখানে সাধারণ দ্বিশয্যা কক্ষের ভাড়া
১০০০ টাকা, তাপ নিয়ন্ত্রিত দ্বিশয্যা কক্ষের ভাড়া ১৬০০ টাকা, ভিআইপি স্যুটের ভাড়া ২৮০০ টাকা। ফোন- ৬৩৬৮১, ৬২৮৯৪। শহরের জাহাজ কোম্পানির
মোড়ে হোটেল শাহ আমানত। এখানে সাধারণ এক শয্যার কক্ষ ৩০০-৭০০ টাকা, সাধারণ দ্বিশয্যা কক্ষের ভাড়া ৪০০ টাকা, তাপ নিয়ন্ত্রিত দ্বিশয্যা কক্ষের ভাড়া
১০০০ টাকা, স্যুটের ভাড়া ১৬০০ টাকা। ফান- ৬৫৬৭৩। এছাড়াও রংপুরের অন্যান্য হোটেল হলো- জাহাজ কোম্পানির মোড়ে গোল্ডেন টাওয়ার, ফোন-
৬৫৯২০, ৬১১৬৯। থানা রোডে হোটেল তিলোত্তমা, ফোন- ৬৩৪৮২। জিএল রায় রোডে হোটেল পার্ক, ফোন- ৬৬৭১৮। ধাপ জেল রোডে হোটেল বিজয়, ফোন-
৬৫৮৭১। স্টেশন রোডে হোটেল চাঁদিমা, ফোন- ৬২০২৬।

Written by

We are Creative Blogger Theme Wavers which provides user friendly, effective and easy to use themes. Each support has free and providing HD support screen casting.

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

© 2013 iPRESS. All rights resevered. Designed by Templateism